হরে কৃষ্ণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হরে কৃষ্ণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯

বেদ শব্দের অর্থ হল জ্ঞান । সকল জ্ঞানের মূলে রয়েছে একাক্ষর প্রণব (ওঙ্কার )

বেদ শব্দের অর্থ হল জ্ঞান । সকল জ্ঞানের মূলে রয়েছে একাক্ষর প্রণব (ওঙ্কার )

যা কিছু কর না কেন অর্থ বুঝে কীর্ওন করতে হয় ,তবেত ভাব হবে।
 

হরে কৃষ্ণ ,হরে কৃষ্ণ ,কৃষ্ণ কৃষ্ণ ,হরে  হরে ।
হরে রাম ,হরে রাম ,রাম রাম ,হরে হরে

শ্রী চৈতন্য বলে গেলেন তারক ব্রহ্মনাম ,এ নামে জীবের এাণ হবে । তনি  কি আর মিছে বেেলছেন গো না মিছে বল্তে এসেছিলেন !কিন্তু ক’টা জীবের হল ?

 হরে , কৃষ্ণ , রাম -কথা ত তিনটি ,বার বার করে তিনি ষোল বার বলেছেন । নাম করে এ সাধাকের ষোলটি লক্ষণ প্রাকাশ পাবে- 
১। পঞ্চ প্রাণের জাগরন - প্রান ,অপ্রান ,ব্যান সমান ,উদান
২।পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের জাগরন - চক্ষু ,কর্ণ ,নাসিকা জিহ্বা  ,ত্বক ।
৩। ছয় রসের জাগরণ - লবন ,ইক্ষু ,সুরা ,সর্পী ,দধি দুগ্ধ ।
বল ত ক ’জনের হয়েছে?
রস কিন্তু সাতটি -সপ্তদশ  (১৭) বস্তুটির জাগরণ ব্যতীত সপ্তম রসটি পাওয়া যায় না ।

সপ্তদশ (১৭)নামটি রয়েছে এই ষোল নামের গোড়াতে । সেইটিকে জান্তে পারলে এই ষোলটিকে নিয়ে আর হাঙ্গামা    দরকার নেই  ।
একের মাঝে যে একশ সেই একটিকে জানলেই বোঝা যায় ।

গীতাতে ভগবান বলেছেন  - প্রণভ ঃ সর্ব্বদেবষু -
 বেদ শব্দের অর্থ হল জ্ঞান । সকল জ্ঞানের মূলে রয়েছে একাক্ষর প্রণব (ওঙ্কার )

দেবতা পূজা বিধি সম্মত ,না অবিধি সম্মত..?  চলুন গীতা থেকে যেনে নিই !!

দেবতা পূজা বিধি সম্মত ,না অবিধি সম্মত..? চলুন গীতা থেকে যেনে নিই !!

দেবতা পূজা বিধি সম্মত ,না অবিধি সম্মত..?  চলুন গীতা থেকে যেনে নিই !!

হে গীতা মুখী ভাইবোনেরা দেখুন ৯ম ২৩ শ্লোকে কি বলেছেন
যেহপ্যন্যদেবতাভক্তা যজন্তে শ্রদ্ধায়ান্বিতাঃ।
তেহপি মামেব কৌন্তেয় যজন্ত্যবিধি পূর্বকম্ ।।
Debota Puja 2019
Debota Puja 


অনুবাদ: হে অর্জুন,যে ব্যক্তি ভক্তির সহিত অন্য দেবতা পূজা করে তারও বিধিহীনভাবে (অর্থ্যাৎ বিধি সম্মত নয়) আমারি ভজনা করে।

৪র্থ অধ্যায় ১২ শ্লোক

অনুবাদ: যে ব্যক্তি দেবতা পূজা করিয়া সিদ্ধি লাভ করিতে চায়, সে তাহা দ¦ারা সিদ্ধিলাভ করে, কিন্তু সে ব্যক্তি মুক্তি লাভ করিতে পারে না। (অর্থ্যাৎ সে ব্যক্তি ঈশ্বরকে লাভ করতে পারে না)

৭ম অধ্যায়ের ২০ শ্লোক

নানা কামনায় যাহার জ্ঞান নাশ হয় সেই ব্যক্তি নানাভাবে অন্যদেবতার পূজা করে।

৭ম অধ্যায়ের ২১ শ্লোক

যে ভক্ত অন্য যেই দেবতাকে পূজা করিতে চায় সে দেবতাকে পূজা করিবার অচলা ভক্তি আমিই দিয়ে থাকি (এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে অচলা ভক্তি আমিই  দিয়। তাহলে শুধু শুধু দেবতা পুজা করে শ্রীকৃষ্ণের কথাকে অসম্মান করার কি দরকার।)
৭ম ২৩ শ্লোক

অন্য দেবতা পূজা করিয়া ভক্ত যে ইষ্টলাভ করে তাহা ক্ষণস্থায়ী , কিন্তু আমার ভক্ত চিরদিনের জন্য আমাকে লাভ করে।( তালে আমারা শুধু শুধু ক্ষণস্থায়িটা কেন নিব)


যারা দেবতা পূজা করে তারা রজোগুণের অধিকারী
১৪অধ্যাযের ২১ শ্লোক

রজোগুণ বৃদ্ধিকালে মরিলে নরলোকে যায় এবং তমো বৃদ্ধি কালে মরিলে পশুযোনি প্রাপ্ত হয়  হে সনাতন, তা হলে আমরা কেন শুধু শুধু নরলোকে যাব এবং পশু কেন হব বলতে পারেণ )

(সব কিছু বাদ দিয়ে হৃদয়দেশে ধ্যান করুণ ভগবান নিশ্চয় প্রকাশিত হবে)

আমরা যাকে ভগবান মান্য করি তার কথা কি মেনে চলি ?

আমরা যাকে ভগবান মান্য করি তার কথা কি মেনে চলি ?

আমরা যাকে ভগবান মান্য করি তার কথা কি মেনে চলি ? দেবতা পূজা প্রসঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কি বলেছেন চলুন গীতা থেকে জেনে নেওয়া যাক । 
SoNaton Bangla-Amra Jake vogoban mone kori
SoNaton Bangla-Amra Jake vogoban mone kori

নবম অধ্যায়রের ২৩নং শ্লোকে বলেছেন যে হে অর্জুন যারা ভক্তিপূর্বক অন্যদেবতার পূজা করে তারা ও অবিধিপূর্বক আমার ই পূজা করে । ২৪নং শ্লোকে আমি  (ঈশ্বর ) সর্ব যজ্ঞের ভোক্তা ও কর্মের ফলদাতা তা মুর্খ ব্যাক্তি তা জানে না  । তাই সংসারে অধোপতিত হয় । ।         

অপনাদের কোন মতামত থাকলে কমেন্টে যানাতে পারেন ।


শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানুন

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে কিছু তথ্য জানুন

প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণ কি ঈশ্বর..?

১.  শ্রীকৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ (ঈশ্বরের জন্ম,মৃত্য হয় না..!)
         ২.শ্রীকৃষ্ণ বিয়ে করেছেন (ঈশ্বর কখনো বিয়ে করতে পারে না..!)
৩.শ্রীকৃষ্ণের ছেলে আছে (ঈশ্বরের কখনো ছেলে থাকতে পারে না..!)
৪. শ্রীকৃষ্ণ বেদের বাণে মারা গিয়েছিনে (ঈশ্বর কখনো মারা যায় না..!) 

তার মনে দেখাগেছে শ্রীকৃষ্ণ ঈশ্বর নয় ,শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছে ঈশ্বরের পঠানো দূত। এটা কেবল হিন্দু ধর্মে নয় সকল ধর্মের জন্য । যেমন , খ্রীষ্টান ধর্মে যীশু খ্রীষ্ট বলেছেন আমি ঈশ্বর নই ,ঈশ্বরের পুত্র।
মুহাম্মদ বলেছেন আমি খোদা নয় ,খোদার সংবাদ বাহক।
 
আমাদের এই পোষ্টটি বুঝতে হলে প্রথমে আমি কে ,সেই পোষ্টটি বুঝতে হবে.।
প্রশ্ন: শ্রীকৃষ্ণ কি ঈশ্বর..?

            ১. শ্রীকৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ (ঈশ্বরের জন্ম,মৃত্য হয় না..!)
             ২.শ্রীকৃষ্ণ বিয়ে করেছেন (ঈশ্বর কখনো বিয়ে করতে পারে না..!)
৩.শ্রীকৃষ্ণের ছেলে আছে (ঈশ্বরের কখনো ছেলে থাকতে পারে না..!)
৪. শ্রীকৃষ্ণ বেদের বাণে মারা গিয়েছিনে (ঈশ্বর কখনো মারা যায় না..!) 

তার মনে দেখাগেছে শ্রীকৃষ্ণ ঈশ্বর নয় ,শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছে ঈশ্বরের পঠানো দূত। এটা কেবল হিন্দু ধর্মে নয় সকল ধর্মের জন্য । যেমন , খ্রীষ্টান ধর্মে যীশু খ্রীষ্ট বলেছেন আমি ঈশ্বর নই ,ঈশ্বরের পুত্র।
মুহাম্মদ বলেছেন আমি খোদা নয় ,খোদার সংবাদ বাহক।
 
আমাদের এই পোষ্টটি বুঝতে হলে প্রথমে আমি কে ,সেই পোষ্টটি বুঝতে হবে.।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯

আমি কে,কোথা থেকে এসেছি,কোথায় যাব নিজে জানুন অন্যকে জানান (সনাতন বাংলা)

আমি কে,কোথা থেকে এসেছি,কোথায় যাব নিজে জানুন অন্যকে জানান (সনাতন বাংলা)

সনাতন ধর্ম হচ্ছে আদি ধর্ম। ‍সিন্দু থেকে উৎপিত্ত হয়ে হিন্দু ধর্ম প্রচার হয়।

আমি কে,কোথা থেকে এসেছি,কোথায় যাব !!!

এজনম কত সাধনার ফলে পেয়েছি এই জনম কিসের জন্য? কৃষ্ণ ভজনের জন্য তার চরণ পাবার আশায় যা স্বর্গের দেব দেবীরা ও আশা করে যা ওদের ভাগ্যে
নাই, আর আমারা কি করছি?

মায়া দ্বারা আবদ্ধ হয়ে যে কি না আমাদের পরম বন্ধু তাকেই ভুলে বসে আছি। যারা নাকি পর দুদিনের সঙ্গী তাদের আপন করে বসে আছি। তাহলে আমরা কেমন বোকা?
এই ধরাধামে এসেছি প্রতিটি সেকেন্ডের ও অনেক মূল্য। আমাদের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত হারিয়ে ফেলছি আমরা আমাদের জীবন থেকে।
আমাদের হিন্দু ধর্মের প্রতিটি সদস্যকে সকাল সন্ধ্যা সর্বনিম্ন 108 বার বা 2 মালা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করা উচিত।

সকল কাজের আগে কিছু খাওয়ার আগে শ্রী কৃষ্ণায় নমঃ প্রণাম করে খেতে হবে।

কারণ আমরা যা কিছু আহরণ করি সবই  ভগবানের সৃষ্টি তাই কোন কিছু খাওয়ার আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে নিবেদন করে খেতে হয়।
আাজ এখানেই শেষ করলাম হরে কৃষ্ণ।

আরো বিস্তারিত নিয়ে  আমরা আসছি আমাদের সাথে থাকুন !!
আমাদের পোস্ট গুলো শেয়ার করতে একেবারে ভুলবেন না।

শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯

কিছু কিছু বাঁধা-নিষেধ।-JHP SANDWIP

কিছু কিছু বাঁধা-নিষেধ।-JHP SANDWIP

কিছু কিছু বাঁধা-নিষেধ। 
  ১. গাড়িতে / পালকিতে / জুতা পায়ে দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ।
২. খাবারের পর হাত-মুখ না ধুয়ে মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ।
৩. এক হাতে দণ্ডবৎ করা নিষেধ।
৪. মন্দিরে ক্রুধ হয়া উচিত নয়।
৫. কপালে thrireka-বিশিষ্ট তিলক করা নিষেধ।
৬. লাল কাপড় / নীল কাপড় / অপরিষ্কার কাপড় পরে মন্দিরে প্রবেশ ঠিক না।
৭. মন্দিরে বায়ুতেগ ঠিক না।
৮. শ্রী কৃষ্ণকে নিবেদন না করে কিছু আহরণ করা উচিত না।
৯. ভগবানের সামনে অন্ন কারু স্তুতি / প্রসংশা উচিত নয়।
১০. আগমনবার্তা না জানিয়ে ভগবানের মন্দিরে প্রবেশ উচিত নয়।

( বি। দ্রঃ এগুলো আমাদের মনগড়া কথা নয়। হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত)

শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০১৯

শ্রীল প্রভুপাদ কথামৃত

শ্রীল প্রভুপাদ কথামৃত

শ্রীল প্রভুপাদ কথামৃত

আকাশ থেকে বৃষ্টি হবার ফলে ক্ষেতে ফসল হয়। এই বৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করেন ইন্দ্র,চন্দ্র,সূর্য আদি দেবতারা। এঁরা সকলেই হচ্ছেন ভগবানের আজ্ঞাবাহক ভৃত্য। তাই, যজ্ঞ করে ভগবানকে তুষ্ট করলেই তাঁর ভৃত্যেরাও তুষ্ট হন এবং তাঁরা তখন সমস্ত অভাব মোচন করেন। এই যুগের জন্য নির্ধারিত যজ্ঞ হচ্ছে সংকীর্তন যজ্ঞ, তাই অন্ততপক্ষে খাদ্য সরবরাহের অভাব- অনটন থেকে রেহাই পেতে গেলে, সকলেরই কর্তব্য হচ্ছে এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান করা। এই সংকীর্তন যজ্ঞ করলে মানুষের খাওয়া-পরার আর কোন অভাব থাকবে না।

শ্রীল প্রভুপাদ কথামৃত.....

মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ভগবান কে ? তা আজ জেনে নিই

ভগবান কে ? তা আজ জেনে নিই

ভগবান কে ? তা আজ জেনে নিই: 
¢♪♪♪♪ পরাশর মুনি ;ভগবান; শব্দটির সংজ্ঞা প্রদান করেছেন । ;ভগ; অর্থ ঐশ্বর্য্য এবং;বান; অর্থ অধিকারী , যার আছে । ঠিক যেভাবে যার সুন্দর রূপ আছে - আমরা তাকে বলি রূপবান, যার ধন আছে ধনবান , ঠিক তদ্রুপ যিনি ভগ অর্থাৎ ঐশ্বর্যের অধিকারী তাকে বলে ভগবান । পরাশর মুনি ভগবান শব্দের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন- 
"ঐশ্বর্য্যস্য সমগ্রস্য বীর্যস্য যশসঃ শ্রিয়ঃ । জ্ঞানবৈরাগ্যয়োশ্চৈব ষন্নত্ভগ ইতিঙ্গনা ॥

যার মধ্যে এই ছয়টি গুন পূর্ণমাত্রায় বর্তমান, তিনি হচ্ছেন ভগবান - সমস্ত ঐশ্বর্য্য ,সমস্ত বীর্য্য ,সমস্ত যশ ,সমস্ত শ্রী ,সমস্ত জ্ঞান এবং সমস্ত বৈরাগ্য । এই জগতে কেউ বড় ধনী হতে পারে, কিন্তু কেউ দাবী করতে পারেনা আমি সমস্ত ধনের মালিক । এই জগতে কেউ জ্ঞানী হতে পারে ,কিন্তু সে দাবী করতে পারে না সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী । কিন্তু ভগবান সমস্ত ধন ,সমস্ত জ্ঞান ,সমস্ত সৌন্দর্য্য ,সমস্ত যশ ,সমস্ত শক্তির অধিকারী , তাই তাকে বলা হয় ভগবান । পরম ব্রহ্ম ভগবান সর্ম্পকে বেদান্ত সূত্রের প্রথম শ্লোকে বলা হয়েছে ;অথাতো ব্রহ্ম জিজ্ঞাসা ; সেই পরম ব্রহ্মটি কে ? তার উত্তরে দ্বিতীয় শ্লোকে বর্ননা করা হয়েছে ;জন্মদস্য যতঃ; এই সুত্রটি শ্রীমদ্ভাগবতের ব্যাসদেব তার শ্লোকে সংযোজন করেছেন এভাবে: "জন্মদস্য যতোহন্বয়াদিতরতশ চার্থেষ্বভিজ্ঞ স্বরাট্‌ ; জন্ম আদি অস্য যতঃ -" অর্থাৎ যা হতে এ দৃশ্যমান জগত অনন্তকোটি ব্রহ্মান্ড ,জন্ম আদি অর্থাৎ সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় হয় তিনি হচ্ছেন পরম ব্রহ্ম ভগবান ।"
অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে । ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাবসমম্বিতাঃ ॥ - ভগবদগীতাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বর্ননা করেছেন আমি সমস্ত কিছুর উতৎ ও সবকিছু আমার কাছ থেকে উৎপত্তি হয়েছে । অর্থাৎ ভগবান হচ্ছেন সবকিছুর স্রষ্টা, সবকিছুর পালন করেন এবং তিনি সবকিছু সংহার করতে পারেন । এভাবে ভগবানের সর্বশক্তিমত্ত্বা সর্ম্পকে শাস্ত্রে বর্ননা করা হয়েছে । ভগবানকে কেউ ঈশ্বর বলে সম্বোধন করে থাকেন । তাই ঈশ্বর শব্দটির অর্থ আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন । শাস্ত্র বা শব্দকোষ অনুসারে ঈশ্বর শব্দের অর্থ হচ্ছে -নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ন্ত্রণ কর্তা অর্থাৎ যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন ।এই জগতের প্রতিটি জীবের সীমিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে , তাই তারা নিজেকে ঈশ্বর বলে মনে করতে পারে বা দেবতাদেরকে ঈশ্বর বলে গ্রহন করা যেতে পারে । যেহেতু তারা এই ব্রহ্মান্ডের কোনও না কোন কার্যের নিয়ন্ত্রন করে থাকেন । কিন্তু ঈশ্বরকে যিনি নিয়ন্ত্রন করেন । সেই পরমেশ্বরকে জানাই হচ্ছে জীবনের লক্ষ্য । পরমব্রহ্ম বা পরম ঈশ্বরকে নিয়ন্ত্রন করে থাকেন , তিনিই ভগবান । ভগবান শব্দটি সমাজে যেমন খুশি ব্যবহার হচ্ছে , সেভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় । বর্তমান সমাজ যেকোন যোগ-সিদ্ধি লাভ করা ব্যক্তির প্রতি এই শব্দটি ব্যবহার করা হয় যা শাস্ত্রবিরোধী ।
♣ হরেকৃষ্ণ ♣

সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

একাদশী-কেন-আমরা-পরের-দিন-পালন-করি?

একাদশী-কেন-আমরা-পরের-দিন-পালন-করি?

আমরা একাদশী পালন করি সূর্যোদয় থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। রাত ১২ টা বা মধ্যরাত্রির হিসাব পাশ্চাত্য জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী; কিন্তু বৈদিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত থেকে হিসাব করতে হয়। সাধারণত তা সূর্যোদয় থেকেই হিসাব করা হয়। আমাদের হিসাবটি এরকমঃ একাদশী তিথির মধ্যে যদি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে ঐদিনই একাদশী পালন করতে হবে। আর যদি সূর্যোদয়ের পর (এক মিনিট পর হলেও) একাদশী তিথি শুরু হয় তাহলে তা পরের দিন পালন করতে হয়। আমাদের সকল বৈদিক উৎসবই এভাবে পালিত হয়ে আসছে। এটার মানে আমাদেরকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে একাদশী তিথির (নির্দিষ্ট সময় ব্যবধান) মধ্যে যেন সূর্যোদয় পড়ে। আমরা পাশ্চাত্য রীতি অনুসরণ করি না। তারা বড়দিন ২৫ ডিসেম্বর – নির্দিষ্ট দিনে পালন করে কিন্তু আমাদের জন্মাষ্টমীর জন্য ঐরকম নির্দিষ্ট কোনো দিন নেই।
তিথির সূর্যোদয় নিয়মঃ

১। যদি একাদশী তিথিটি সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়ে পরের দিন সূর্যোদয়ের পূর্বেই শেষ হয়ে যায় তাহলে তা পরের দিন পালন করতে হবে। একে উন্মীলনী মহাদ্বাদশী বলে।

২। যদি কোনো তিথিতে দুটি সূর্যোদয় পড়ে তাহলে তা আগের দিন পালন করতে হয় (একাদশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা ব্যতীত)।

৩। যদি একাদশী তিথি ব্রাহ্মমূহুর্তে (সূর্যোদয়ের ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট পূর্বে) তাহলে তা শুদ্ধ একাদশী। যদি তা সূর্যোদয়ের পরে শুরু হয়, তাহলে তা অপবিত্র একাদশী, এবং তা পরের দিন তথা দ্বাদশী বা মহাদ্বাদশীতে পালন করতে হয়।

৪। যদি দ্বাদশী সূর্যোদয়ের পর শুরু হয়ে পরের দিন (ত্রয়োদশী) সূর্যোদয়ের পূর্বে শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাকে ত্রিস্পর্শা মহাদ্বাদশী বলা হয়।

৫। যদি দ্বাদশীতে পরপর দুটি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে প্রথম দ্বাদশীতে উপবাস পালন করতে হয়। একে ব্যঞ্জুলী মহাদ্বাদশী বলে।

৬। যদি একাদশীর পরের অমাবস্যা বা পূর্ণিমাতে পরপর দুটি সূর্যোদয় পড়ে, তাহলে একে পক্ষ-বর্ধিনী মহাদ্বাদশী বলা হয়। (যেমন- পুরুষোত্তম মাসের পরমা একাদশী)

শেয়ার করে অন্যদের জানতে সহায়তা করুন-
একাদশী ব্রত পালন করলে কি হয় ?

একাদশী ব্রত পালন করলে কি হয় ?

“কৃষ্ণ ভূলি যেই জীব অনাদি বহির্মুখ।
অতএব মায়া তারে দেয় সংসার দুঃখ।।”

শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতি প্রতি আকৃষ্ট রয়েছে। তাই ম‍ায়া তাকে এ জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে। পরম করুণাময় ভগবান কৃষ্ণস্মৃতি জাগরিত করতে মায়াগ্রস্ত জীবের কল্যাণে বেদপুরাণে আদি শ‍াস্ত্রগ্রন্থাবলী দান করেছেন। ভক্তি হচ্ছে ভগবানকে জানার ও ভগবৎ প্রীতি সাধনের একমাত্র সহজ উপায়।

শাস্ত্রে যে চৌষট্টি প্রকার ভক্ত্যাঙ্গের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে একাদশী ব্রত সর্বত্তোম। শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ আদি নবধা ভক্তির পরই দশম ভক্ত্যাঙ্গরূপে একাদশীর স্থান। এই তিথিকে হরিবাসর বলা হয়। তাই ভক্তি লাভেচ্ছু সকলেরই একাদশী ব্রত পালনের পরম উপযোগিতার কথা বিভিন্ন পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। একাদশী তিথি সকলের অভীষ্ট প্রদানকারী। এই ব্রত পালনে সমস্ত প্রকার পাপ বিনষ্ট, সর্বসৌভাগ্য ও শ্রীকৃষ্ণের প্রীতি বিধান হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আট থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত যে কোন ব্যক্তিরই ভক্তিসহকারে পবিত্র একাদশী ব্রত পালন করা কর্তব্য। সঙ্কটজনক অবস্থা বা জন্মমৃত্যুর অশৌচে কখনও একাদশী পরিত্যাগ করতে নেই। একাদশীতে শ্রাদ্ধ উপস্থিত হলে সেইদিন না করে দ্বাদশীতে শ্রাদ্ধ করা উচিত। শুধু বৈষ্ণবেরাই নয়, শিবের উপাসক, সূর্য-চন্দ্র-ইন্দ্রাদি যেকোন দেবোপাসক, সকলেরই কর্তব্য একাদশী ব্রত পালন করা। দুর্লভ মানবজীবন লাভ করেও এই ব্রত অনুষ্ঠান না করলে বহু দঃখে-কষ্টে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করতে হয়। অহংকারবশত একাদশী ব্রত ত্যাগ করলে অশেষ যমযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। যে ব্যাক্তি এই ব্রতকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, জীবিত হয়েও সে মৃতের সমান।

কেউ যদি বলে “একাদশী পালনের দরকারটা কি?’’
সে নিশ্চয় কুম্ভপাক নরকের যাত্রী। যারা একাদশী পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শনির কোপে তার‍া বিনষ্ট হয়। একাদশীকে উপেক্ষা করে তীর্থ স্নান আদি অন্য ব্রত পালনকারীর অবস্থা গাছের গোড়া কেটে পাতায় জল দানের মতোই। একাদশী বাদ দিয়ে যারা দেহধর্মে অধিক আগ্রহ দেখায়, ধর্মের নামে পাপরাশিতে তাদের উদর পূর্ণ হয়। কলহ-বিবাদের করেণেও একাদশী দিনে উপব‍াস করলে অজ্ঞাত সুকৃতি সঞ্চিত হয়। পুণ্য প্রদায়িনী সর্বশেষ্ঠ এই ব্রত শ্রীহরির অতি প্রিয়। একাদশী ব্রত পালনে যে ফল লাভ হয়, অশ্বমেধ, রাজসূয় ও বাজপেয় যজ্ঞদ্বারাও তা হয় না। দেবরাজ ইন্দ্রও যথাবিধি একাদশী পালনকারীকে সম্মান করেন। একাদশী ব্রতে ভাগবত শ্রবণে পৃথিবী দানের ফল লাভ হয়। অনাহারে থেকে হরিনাম, হরিকথা রাত্রিজাগরণে একাদশী পালন করা কর্তব্য। কেউ যদি একাদশী ব্রতে শুধু উপবাস করে তাতে বহু ফল পাওয়া যায়। শুদ্ধ ভক্তেরা এই দিনে একাদশ ইন্দ্রিয়কে শ্রীকৃষ্ণে সমর্পণ করেন।

একদশীতে শস্যমধ্যে সমস্ত পাপ অবস্থান করে। তাই চাল, ডাল, আটা, ময়দা, সুজি, সরিষা আদি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য একদশী দিনে বর্জন করা উচিত। নির্জলা উপবাসে অসমর্থ ব্যক্তি জল,দুধ, ফল-মূল, এমনকি আলু, পেঁপে, কলা, ঘিয়ে বা বাদাম তেল অথবা সূর্যমুখী তেলে রান্না অনুকল্প প্রসাদ রূপে গ্রহন করতে পারেন। রবিশস্য (ধান, গম, ভূট্টা, ডাল, ও সরিষা) ও সোয়াবিন তেল অবশ্যই বর্জনীয়। দশমী বিদ্ধা একাদশীর দিন বাদ দিয়ে দ্বাদশী বিদ্ধা একাদশী ব্রত পালন করতে হয়। একাদশীতে সূর্যোদয়ের পূর্বে বা সূর্যোদয় কালে (1ঘন্টা 36 মিনিটের মধ্যে) যদি দশমি স্পর্শ হয়, তাকে দশমী বিদ্ধা বলে জেনে পরদিন একাদশীব্রত পালন করতে হয়। মহাদ্বাদশীর আগমন হলে একাদশীর উপবাস ব্রতটি মহাদ্বাদশীতেই করতে হয়। একাদশী ব্রত করে পরের দিন উপযুক্ত সময়ে শস্যজাতীয় প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করতে হয়। শাস্ত্রবিধি না মেনে নিজের মনগড়া একাদশী ব্রত করলে কোন ফল লাভ হয় না। একাদশী উপবাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরে ছাব্বিশটি একাদশী আসে। সাধারণত বার মাসে চব্বিশটি একাদশী। এইগুলি হচ্ছে– উৎপন্না, মোক্ষদা, সফলা, পুত্রদা, ষটতিলা, জয়া,বিজয়া, আমলকি, পাপমোচনী, কামদা, বরুথিনী, মোহিনী, অপরা, নির্জলা, যোগিনী, শয়ন, কামিক‍া, পবিত্রা, অন্নদা, পরিবর্তিনী বা পার্শ্ব, ইন্দিরা, পাশাঙ্কুশা, রমা এবং উত্থান।কিন্তু যে বৎসর পুরুষোত্তমাস, অধিমাস বা মলমাস থাকে, সেই বৎসর পদ্মিনী ও পরমা নামে আরও দুটি একাদশীর আবির্ভ‍াব হয়। যারা যথাবিধি একাদশী উপবাসে অসমর্থ অথবা ব্রতদিনে সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণে অসমর্থ, তারা এই একাদশী মাহাত্ম্য পাঠ কবা শ্রবণ করলে অসীম সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন।
বিষ্ণুর 10 অবতার এর কথা

বিষ্ণুর 10 অবতার এর কথা

বিষ্ণুর 10 অবতার এর কথা শুনিলে খুব মোড় হাসি পায় । পুরান সব বেদের অনেক অনেক পরে রচিত, যখনই পৃথিবী তে বিপদ দেখা দেয় সেই সময় নাকি ঈশ্বরসেই বিপদ কে শেষ করে এই ধরাধামে নেমে আসে যেমন শুয়োর, মাছ, কচ্ছপ , নরসিংহ, 👈👈👈👈 এগুলো কি বাস্তব এর মধ্যে পড়ে ?😂😂😂😂 এই দিকে বুদ্ধ কে ঢুকিয়েছে বুদ্ধ তো বৌদ্ধ সে তো বেদ গীতা মানত না তাকেও ঢুকিয়েছে । আরো অনেক এই তিনটা জীব সত্য যুগে এসেছিলো , কিন্তু দেখো কলিযুগে এত বিপদ ঈশ্বর কোথায় ???
বিনা দোষে কোটি কোটি হিন্দু কে মারেছে মুসলিম রা, খ্রিষ্টান রা ঈশ্বর কি আর রূপ নেওয়ার ক্ষমতা নেই, দুটো বোরো বোরো বিশ্ব যুদ্ধ হলো কথায়জন্ম ঈশ্বর এর ??? অবতার এর কথা অন্ধ মানুষ রুপি জন্তুদের মুখেই মানায় । জীব আত্মা কে ঈশ্বর দিয়েছে এখন আমরা যেভাবে চলবো সেই ভাবেই চলবেজীব আত্মা ,
ঈশ্বর কিছু করতে আসবে না ঈশ্বর জ্ঞান দিয়েছে সেই জ্ঞান মতে চলবে তো ভালো হবে চলবে তো খারাপ হবে এটা স্বাভাবিক , আগুনে হাত দিলে তো আর এগুলো তোমাকে ছেড়ে দেবেনা আর ঈশ্বর আসে বলবেও না কেনো হাত দিচ্ছ আগুনে ।
তেমন শরীর কে চালোনা করবে জীব আত্মাই অন্য কেউ নয় , কারো মতে যদি এমন হয় -" ঈশ্বর আমাদের দেহ কে চালায়" তাহলে এই কথা ভুল হবে ঈশ্বর যদি আমাদের চালোনা করে তাহলে আমাদের কর্মের ফল কেন দেবে ঈশ্বর ? সবই তো সেই ঈশ্বর করাচ্ছে তাদের মতে কিন্তু যদি তাদের কোনো আত্মীয় মারা যায় ডাক্তার এর ভুলে তাহলে তো হয়ে গেলো সেই ডাক্তার কে কাছে পেলে মারতে শুরু করবে । তখন আর বলবে না যে বাদ দাও সবই তো ঈশ্বর করাচ্ছে ।
🙏🙏🙏🙏
পৃথিবীর উচ্চতম মন্দির স্থাপিত হতে চলেছে বৃন্দাবনে

পৃথিবীর উচ্চতম মন্দির স্থাপিত হতে চলেছে বৃন্দাবনে


পৃথিবীর উচ্চতম মন্দির স্থাপিত
হতে চলেছে বৃন্দাবনে

ইস্কনের
তত্তাবোধানে মন্দিরটি তৈরী করা হচ্ছে।
মন্দিরটি কুতুবমিনারের চেয়ে তিন গুন উঁচু
হবে।কুতুবমিনারের উচ্চতা ৭২ মিটার তার
চেয়ে তিনগুন হবে ।৭০ তলা বিশিষ্ট এই
মন্দিরটি হবে পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চত্তর
মন্দির। মন্দিরের গঠনশৈলীতে অসাধারন
শিল্পকর্মের নিদর্শন তুলে ধরা হবে।
মথুরায় যমুনা নদীর তীরে ৬২ একর
জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।ভক্তদের
থাকার জন্য ৫০০ কক্ষ থাকবে এই মন্দিরে।
চলতি মাসেই কাজ শুরু করা হবে।

সবাই শেয়ার করুন

মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

শ্রীকৃষ্ঞের ১০৮ টি নাম

শ্রীকৃষ্ঞের ১০৮ টি নাম

জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর।
কৃষ্ণচন্দ্র কর দয়া করুণাসাগর।।
জয় রাধে গোবিন্দু গোপাল বনমালী।
শ্রীরাধার প্রাণধন মুকন্দ মুরারি।।
হরিনাম বিনে রে গোবিন্দু নাম বিনে।
বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে।।
দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।
না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ চরণার বিন্দে।।
কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।

মিছে মায়ায় বদ্ধ হ’য়ে বৃক্ষসম হৈনু।।
ফলরূপে পুত্র কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে।
কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে।।
যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দৈবকী উদরে।
মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে।।
বসুদেব রাখি এলো নন্দের মন্দিরে।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে।।
শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।১
যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন।।২
উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল।৩
ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল।।৪
সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।৫
শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল রাজা ভাই।।৬
ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী।৭
কালসোনা নাম রাখে রাধা-বিনোদিনী।।৮
কুজ্বা রাখিল নাম পতিত-পাবন হরি।৯
চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন বংশীধারী।।১০
অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।১১
কৃষ্ণ নাম রাখেন গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া।।১২
কন্বমুনি নাম রাখে দেব চক্রপাণী।১৩
বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী।।১৪
গজহস্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।১৫
অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ন।।১৬
পুরন্দর নাম রাখে দেব শ্রীগোবিন্দ।১৭
দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু।।১৮
সুদাম রাখিল নাম দারিদ্র-ভঞ্জন।১৯
ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন।।২০
দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন সুধীর।২১
পশুপতি নাম রাখে গরুড় মহাবীর।।২২
যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর।২৩
বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গাল ঈশ্বর।।২৪
বাসুকি রাখিল নাম দেব-সৃষ্টি স্থিতি।২৫
ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথি।।২৬
নারদ রাখিল নাম ভক্ত প্রাণধন।২৭
ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ।।২৮
সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথি।২৯
জাম্বুবতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি।।৩০
বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার।৩১
অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার।।৩২
ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।৩৩
পঞ্চমুখে রাম নাম গান ত্রিপুরারি।।৩৪
কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী।৩৫
প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারী।।৩৬
বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি-মনোহর।৩৭
বিশ্বাবসু নাম রাখে নব জলধর।।৩৮
সম্বর্ত্তক নাম রাখে গোবর্দ্ধনধারী।৩৯
প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজনারী।।৪০
অদিতি রাখিল নাম আরতি-সুদন।৪১
গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জুন।।৪২
মহাযোদ্ধা নাম রাখি ভীম মহাবল।৪৩
দয়ানিধি নাম রাখে দরিদ্র সকল।।৪৪
বৃন্দাবন-চন্দ্র নাম রাখে বিন্দুদূতি।৪৫
বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি।।৪৬
বাণী পতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি।৪৭
লক্ষ্মীপতি নাম রাখে সুমন্ত্র সারথি।।৪৮
সন্দীপনি নাম রাখে দেব অন্তর্যামী।৪৯
পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বাম।।৫০
পদ্মযোনী নাম রাখে অনাদির আদি।৫১
নট-নারায়ন নাম রাখিল সম্বাদি।।৫২
হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম।৫৩
ললিতা রাখিল নাম বাদল-শ্যাম।।৫৪
বিশাখা রাখিল নাম অনঙ্গমোহন।৫৫
সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রীবংশীবদন।।৫৬
আয়ন রাখিল নাম ক্রোধ-নিবারণ।৫৭
চন্ডকেশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন।।৫৮
জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্তমণি।৫৯
গোপীকান্ত নাম রাখে সুদাম ঘরণী।।৬০
ভক্তগণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ।৬১
দুর্বাসা নাম রাখে অনাথের নাথ।।৬২
রাসেশ্বর নাম রাখে যতেক মালিনী।৬৩
সর্বযজ্ঞেশ্বর নাম রাখেন শিবানী।।৬৪
উদ্ধব রাখিল নাম মিত্র-হিতকারী।৬৫
অক্রুর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী।।৬৬
গুঞ্জমালী নাম রাখে নীল-পীতবাস।৬৭
সর্ববেত্তা নাম রাখে দ্বৈপায়ণ ব্যাস।।৬৮
অষ্টসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর।৬৯
সুরলোকে নাম রাখে অখিলের সার।।৭০
বৃষভানু নাম রাখে পরম ঈশ্বর।৭১
স্বর্গবাসী নাম রাখে সর্ব পরাৎপর।।৭২
পুলোমা রাখেন নাম অনাথের সখা।৭৩
রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা।।৭৪
চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি দমন।৭৫
পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন-রঞ্জন।।৭৬
কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর।৭৭
ভাণ্ডারীক নাম রাখে পূর্ণ শশধর।।৭৮
সুমালী রাখিল নাম পুরুষ প্রধান।৭৯
পুরঞ্জন নাম রাখে ভক্তগণ প্রাণ।।৮০
রজকিনী নাম রাখে নন্দের দুলাল।৮১
আহ্লাদিনী নাম রাখে ব্রজের গোপাল।।৮২
দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি।৮৩
জ্যোতির্ম্ময় নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি।।৮৪
অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্রেশ্বর।৮৫
গৌতম রাখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর।।৮৬
মরীচি রাখিল নাম অচিন্ত্য-অচ্যুত।৮৭
জ্ঞানাতীত নাম রাখে শৌনকাদিসুখ।।৮৮
রুদ্রগণ নাম রাখে দেব মহাকাল।৮৯
সুরগণ নাম রাখে ঠাকুর দয়াল।।৯০
সিদ্ধগণ নাম রাখে পুতনা-নাশন।৯১
সিদ্ধার্থ রাখিল নাম কপিল তপোধন।।৯২
ভাদুরি রাখিল নাম অগতির গতি।৯৩
মৎস্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি।।৯৪
শুক্রাচার্য্য নাম রাখে অখিল বান্ধব।৯৫
বিষ্ণুলোকে নাম রাখে দেব শ্রীমাধব।।৯৬
যদুগণ নাম রাখে যদুকুলপতি।৯৭
অশ্বিনীকুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি।।৯৮
অর্য্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারণ।৯৯
সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন।।১০০
পদ্মাক্ষ রাখিল নাম ভ্রমরী-ভ্রমর।১০১
ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচর।।১০২
বংকচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমঞ্জরী।১০৩
মাধুরা রাখিল নাম গোপী-মনোহারী।।১০৪
মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্টপুরণ।১০৫
কুটিলা রাখিল নাম মদনমোহন।।১০৬
মঞ্জরী রাখিল নাম কর্ম্মব্রহ্ম-নাশ।১০৭
ব্রজব নাম রাখে পূর্ণ অভিলাস।।১০৮
দৈত্যারি দ্বারিকানাথ দারিদ্র-ভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা-নিবারণ।।
স্বরূপে সবার হয় গোলকেতে স্থিতি।
বৈকুন্ঠে ক্ষীরোদশারী কমলার পতি।।
রসময় রসিক নাগর অনুপম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম।।
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারকব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর।।
কল্পতরু কমললোচন হৃষীকেশ।
পতিত-পাবন গুরু জ্ঞান-উপদেশ।।
চিন্তামণি চতুর্ভুজ দেব চক্রপাণি।
দীনবন্ধু দেবকী নন্দন যাদুমনি।।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা।।
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার।।
শততার সুবর্ণ গো কোটি কন্যাদান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণ নামের সমান।।
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি।।
শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন।।
কৃষ্ণনাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর।।
ব্রহ্ম-আদি দেব যারেঁ ধ্যানে নাহি পায়।
সে ধন বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়।।
হিরণ্যকশিপুর উদর-বিদরণ।
প্রহ্লাদে করিল রক্ষা দেব নারায়ণ।।
বলীরে ছলীতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ।।
অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধা কৃষ্ণের চরণ।।
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণকারী নন্দের নন্দন।
মথুরায় কংস-ধ্বংস লঙ্কায় রাবণ।।
বকাসুর বধ আদি কালীয়-দমন।
নরোত্তম কহে এই নাম সংকীর্ত্তণ।(সংগৃহীত)
কৃষ্ণ পূজার নিয়মাবলী

কৃষ্ণ পূজার নিয়মাবলী

আজ আমরা জানব কী ভাবে কৃষ্ঞ পূজা করা যায় ।আপনি খুব সাধারণ ভাবে কৃষ্ণ ভগবানের পূজা করতে পারেন।
প্রথমেই সবাইকে জন্মাষ্টমীর অনেক শুভেচ্ছা জানাই। জন্মাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণ ভগবানের জন্মদিন আনন্দ উৎসবের সাথে পালন করা হয়। এটি ভাদ্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টম দিনে পালিত হয়। এবার ২৮ আগস্ট বুধবার জন্মাষ্টমী ।

কৃষ্ণ ভগবানের পূজা করার সহজ উপায় হচ্ছে গীতা পাঠ করা। এইদিনে অনেকেই উপবাস থাকেন। কিন্তু ভগবান কৃষ্ণের জন্য কেও কেও বিশেষ নিয়মে পুজার্চ্চনা করতে আগ্রহী থাকেন।এই পূজা মন কে শান্তি দেয় এবং নিজের মধ্যে আত্মনিয়োগ করতে সাহায্য করে।
খুব সাধারণ ভাবে যে কেও নিচের নিয়ম মেনে কৃষ্ণ ভগবানের পূজা করতে পারেনঃ
১) প্রথমে একটি শান্ত ও কোলাহল মুক্ত স্থান নির্ধারন করতে হবে।
২) জায়গাটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে স্নান করতে হবে।
৩) ভগবান কৃষ্ণের একটি ছবি/মূর্তির সাথে গণেশ মূর্তিও স্থাপন করতে হবে।
৪) পাশে প্রদীপ রাখতে হবে এবং একটি পাত্রে মিষ্টি/ ফল সাজাতে হবে।
৫) প্রথমে শ্রী গণেশের প্রার্থনা করতে হবে । (ওম শ্রী গণেশায় নমহা)
৬) এরপর কিছুক্ষণ ধ্যান করতে হবে যাতে মন শান্ত হয়।
৭) এখন প্রদীপ জ্বালাতে হবে।
৮) ভগবান কৃষ্ণের প্রার্থনা করতে হবে।(‘ওম নমঃ ভাগবতে বাসুদেবায়’)
৯) এরপর ফুল অর্পন করতে হবে। তুলসি পাতা হলে খুব ভাল হয়।
ধুপ/আগরবাতি জ্বালাতে হবে। ফুল অর্পন করার সময় ঘন্টা বাজান যেতে পারে।
১০) ‘ওম নমঃ ভাগবতে বাসুদেবায়’ উচ্চারন করে যেতে হবে।
১১) এরপর ফল/ মিষ্টি অর্পন করতে হবে। প্রার্থনা শেষে কিছুটা জল ছিটিয়ে দিতে হবে।
কৃষ্ণ ভগবানের এই মন্ত্র বেশ কয়েকবার মনে মনে উচ্চারন করা যেতে পারে। এরপর ফল/মিষ্টি প্রসাদ হিসাবে সবাইকে দিতে হবে। পূজা শেষে ভগবত গীতা পাঠ করতে হবে।
ভগবান কৃষ্ণ, ধর্মীয় আচার পদ্ধতির চেয়ে কর্ম করাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিটা মানুষের মধ্যে ভগবান আছেন এই বিচার করে আমাদের কাজ করতে হবে, এটাই কৃষ্ণ ভগবানের প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ পূজা।